ফ্রিল্যান্সিং আয় সাধারণত করমুক্ত। কিন্তু তার আগে জানতে হবে কোন ফ্রিল্যান্সিং আয় করমুক্ত?

ফ্রিল্যান্সিং আয় সাধারণত করমুক্ত। কিন্তু তার আগে জানতে হবে কোন ফ্রিল্যান্সিং আয় করমুক্ত?
বাংলাদেশে বসবাস করেন বা বিদেশে থাকেন—এমন যেকোনো বাংলাদেশি ব্যক্তি নিচের কাজগুলো থেকে আয় করলে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী কর অব্যাহতি পেতে পারেন:
AI ব্যবহার করে প্রযুক্তিগত সমাধান বা সফটওয়্যার তৈরি
ব্লকচেইন প্রযুক্তির মাধ্যমে সমাধান তৈরি
রোবট বা সফটওয়্যারের সাহায্যে কাজ স্বয়ংক্রিয় করার সেবা
অনলাইনে সফটওয়্যার সেবা প্রদান (Software as a Service)
ফ্রিল্যান্সিং ও অনলাইন কনটেন্ট তৈরি
ডিজিটাল গ্রাফিক ডিজাইন
অনলাইন শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম ও প্রকাশনা
কল সেন্টার সেবা
এ ধরনের অন্যান্য নির্ধারিত কাজ
তবে শর্ত হচ্ছে : সব আয় শতভাগ ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে সম্পন্ন হতে হবে।
এখন প্রশ্ন আসে যে-"আমার আয় তো করমুক্ত, তাহলে রিটার্ন কেন দেব?"
এর উত্তর হচ্ছে- TIN (Taxpayer Identification Number) থাকলে অবশ্যই রিটার্ন জমা দিতে হয়। আপনার আয় করমুক্ত হলেও, কর দেওয়া প্রয়োজন হোক বা না হোক আপনাকে রিটার্ন জমা দিতে হবে।
রিটার্ন দিতে হবে কি না?
১.আয় যদি করমুক্ত সীমার নিচে থাকে-
সাধারণ করদাতার জন্য বছরে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ে কোনো কর দিতে হয় না। তবে বার্ষিক আয় এর নিচে থাকলেও পেশা, আগের বছরের রিটার্ন, ব্যাংক ঋণ, ভিসা বা কোনো নির্দিষ্ট সেবার বা ব্যবসার ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হবে।
২. আয় করমুক্ত সীমার ওপরে, কিন্তু পুরোটা অব্যাহতিপ্রাপ্ত, সেক্ষেত্রে?
আপনার সব আয় করমুক্ত হলেও, রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক হলে রিটার্নে সেই আয়ের তথ্য উল্লেখ করতে হবে। রিটার্নের নির্দিষ্ট স্থানে আপনার করমুক্ত আয় প্রদর্শন করতে হবে। ফলে, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে করযোগ্য আয় ও প্রদেয় কর শূন্য হতে পারে। এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ন হল- মূল রির্টানে করমুক্ত আয় প্রদর্শন না করলে পরবর্তীতে সেই আয় কোন ভাবেই করমুক্ত দাবি করার সুযোগ নেই।
৩. আংশিক করযোগ্য আয়
ফ্রিল্যান্সিংয়ের করমুক্ত আয়ের পাশাপাশি চাকরি বা অন্য ব্যবসা থেকে করযোগ্য আয় থাকলে, রিটার্নে দুই ধরনের আয় আলাদাভাবে দেখাতে হবে। যে আয়ের ওপর কর প্রযোজ্য, সেই আয়ের জন্য নিয়ম অনুযায়ী কর দিতে হবে।
রিটার্ন না দিলে কী ঝুঁকি?
করমুক্ত সুবিধা পাওয়া যাবে না
দেরিতে রিটার্ন দিলে অতিরিক্ত কর বা জরিমানা আসবে
রিটার্ন না দিলে ব্যাংক ঋণ, ভিসা, ট্রেড লাইসেন্স, টেন্ডার বা জমি রেজিস্ট্রেশন সহ নানাপ্রকার কাজ আটকে যেতে পারে।
মোটকথাঃ
ফ্রিল্যান্সিং, কনটেন্ট ক্রিয়েশন ও আইটি সেবার আয় করমুক্ত হলেও, আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া আবশ্যক। এতে আপনার আয়ের হিসাব ও করমুক্ত আয়ের তথ্য সরকারি রেকর্ডে নথিভূক্ত থাকে। তবে করমুক্ত আয়ের টাকার প্রধান শর্তহল
১. ব্যাংকের মাধ্যমে গ্রহণ করা
২. হিসাব ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ করা
৩. এবং সময়মতো মূল রিটার্ন জমা দেয়া
এই আর্টিকেলটি শুধু তথ্যের জন্য; নির্দিষ্ট আইনি বা পরামর্শ নয়। আপনার ক্ষেত্রে কী প্রযোজ্য, জানতে EMA.LEGAL- এর সাথে যোগাযোগ করুন।


