আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় একাধিক ব্যাংক হিসাবের মধ্যে সবগুলো দেখানো কি বাধ্যতামূলক?
আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় করদাতার নামে থাকা সবগুলো সক্রিয় ব্যাংক হিসাবের তথ্য প্রদান করা বাধ্যতামূলক। প্রচলিত আয়কর বিধান অনুযায়ী রিটার্নে করদাতার আর্থিক অবস্থা, সম্পদ এবং সংশ্লিষ্ট লেনদেনের সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ বিবরণ উল্লেখ করতে হয়। তাই একাধিক ব্যাংক হিসাব থাকলে প্রতিটির ব্যাংকের নাম, হিসাব নম্বর ও প্রাসঙ্গিক তথ্য রিটার্নে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। কোনো হিসাব উল্লেখ না করলে তা অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্য প্রদান হিসেবে গণ্য হতে পারে এবং প্রয়োজনে কর কর্তৃপক্ষ ব্যাখ্যা চাইতে পারে। যথাযথ ও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে আপনার রিটার্ন অডিটের জন্য নির্বাচিত হতে পারে।
আমি চাকরি করি এবং ফ্রিল্যান্সিং করি—আয়কর হিসাব কিভাবে করব?
চাকরির বেতন এবং ফ্রিল্যান্সিং থেকে প্রাপ্ত নিট আলাদা দেখিয়ে মোট করযোগ্য আয় নির্ধারণ করতে হবে। এক্ষেত্রে চাকরির ক্ষেত্রে উৎসে কাটা কর সমন্বয় করা যাবে।
বেসরকারী চাকরিজীবীরও ব্যবসায়ীক থাকলে বা আয় দেখাতে হবে কি?
হ্যাঁ। যতপ্রকার প্রকৃত আয় থাকবে তা নির্ধারিত বিবরণীতে আলাদা- আলাদা লিপিবদ্ধ করতে হবে। আয় গোপন করা হলে কর কর্তৃপক্ষের তদন্ত, অডিট কিংবা জরিমানার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
আমি গত বছরের আয়কর রিটার্ন ভুল করেছি, কীভাবে ঠিক করব?
গত বছরের রিটার্নে ভুল হয়ে থাকলে সংশোধিত রিটার্ন দাখিলের সময় আছে কি না তা যাচাই করতে হবে। ভুলের ধরন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট উপ-কর কমিশনারের নিকট আবেদন করতে পারেন। দ্রুত ব্যবস্থা নিলে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা এড়ানো সম্ভব।
আয়কর রিটার্ন যাচাইতে অতিরিক্ত ডকুমেন্ট চাওয়া হলে কী করা উচিত?
চাওয়া নথিপত্র নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে। ব্যাংক স্টেটমেন্ট, আয়ের উৎসের প্রমাণ ও ব্যয়ের দলিল প্রস্তুত রাখুন। অসম্পূর্ণ তথ্য দিলে প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হতে পারে।
আয়কর রিটার্নে ব্যয় বেশি দেখালে কি তদন্ত হতে পারে?
হ্যাঁ, অস্বাভাবিক বা অযৌক্তিক ব্যয় দেখালে কর কর্তৃপক্ষ ব্যয় যাচাই করতে পারে। তাই শুধুমাত্র প্রকৃত ও প্রমাণযোগ্য ব্যয় দেখানো উচিত।
ব্যালেন্স শীট কিভাবে রিটার্নে প্রভাবিত করে?
ব্যালেন্স শীটে ভুল থাকলে আয়, সম্পদ ও দায়ের তথ্যের অসঙ্গতি দেখা দিতে পারে। এতে রিটার্ন যাচাইয়ের সময় অতিরিক্ত ব্যাখ্যা বা নথি চাওয়া হতে পারে। গুরুতর অসঙ্গতি থাকলে কর দ্বায় বৃদ্ধি পাবে।
ফার্ম বা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করলে পূর্বের কোন আয়কর রির্টানের অডিট কিংবা দ্বায় এড়ানো যাবে কিনা?
ব্যবসা বন্ধ হলেও পূর্ববর্তী বছরের বকেয়া রিটার্ন বা কর দায় নিষ্পত্তি করতে হবে। তবে প্রতিষ্ঠান বন্ধের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর অফিসকে চিঠির মাধ্যমে অবহিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
পার্টনারশিপ বা যৌথ ব্যবসার আয়করের হিসাব কীভাবে হবে?
প্রথমে ব্যবসার মোট আয় ও ব্যয় হিসাব করে নিট মুনাফা নির্ধারণ করে পার্টনারশিপ রিটার্ন দাখিল করতে হবে। এরপর অংশীদারিত্ব চুক্তি অনুযায়ী ব্যক্তি রিটার্নে আয় বণ্টন করতে হবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পার্টনারশিপ ফার্ম ও অংশীদারদের কর দায় আলাদাভাবে বিবেচিত হবে।
বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি থাকলে কর হিসাব কীভাবে হবে?
চুক্তির প্রকৃতি অনুযায়ী উৎসে কর কর্তনের বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে। বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে প্রদত্ত অর্থের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কর বিধান ও দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি (DTA) থাকলে বিবেচনা করতে হবে। তাই চুক্তি সম্পাদনের আগে কর বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উত্তম।
