পণ্য আমদানি ও রপ্তানিতে ভ্যাটের হিসাব ও রেয়াত (২০২৬–২০২৭ অর্থবছর)

বাংলাদেশে মূল্য সংযোজন কর (VAT) ব্যবসা পরিচালনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর ব্যবস্থা। ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের বাজেট অনুযায়ী আমদানি ও রপ্তানির ক্ষেত্রে ভ্যাটের মূল কাঠামো বহাল থাকলেও কিছু পণ্য, খাত ও এসআরও-তে পরিবর্তন আনা হয়েছে। তাই সঠিকভাবে ভ্যাট নির্ধারণ, রিটার্ন দাখিল এবং ইনপুট ট্যাক্স রেয়াত গ্রহণের জন্য বর্তমান আইন ও বাজেটের বিধান সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন।

আমদানির সময় ভ্যাট

বিদেশ থেকে বাংলাদেশে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে প্রথম তফসিল বা প্রযোজ্য এসআরও-এর মাধ্যমে অব্যাহতি পাওয়া পণ্য ব্যতীত অধিকাংশ আমদানিকৃত পণ্যের ওপর কাস্টমস পর্যায়ে ভ্যাট পরিশোধ করতে হয়।

সাধারণভাবে ভ্যাট নির্ধারণের ভিত্তি হলো—

  • পণ্যের আমদানি মূল্য (Customs Value/CIF Value)
  • প্রযোজ্য কাস্টমস শুল্ক
  • অন্যান্য প্রযোজ্য শুল্ক ও কর (যেখানে প্রযোজ্য)

এসব উপাদান যোগ করে নির্ধারিত মূল্য (Assessable Value)-এর ওপর প্রচলিত হারে ভ্যাট আরোপ করা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানক ভ্যাট হার ১৫%, তবে কিছু পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে আইন বা এসআরও অনুযায়ী ভিন্ন হার বা অব্যাহতি প্রযোজ্য হতে পারে।

আমদানিকারকদের উচিত প্রতিটি চালানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট HS Code, SRO এবং কাস্টমস মূল্যায়ন যথাযথভাবে যাচাই করা।

রপ্তানিতে ভ্যাট সুবিধা (Zero-Rated VAT)

বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে সাধারণভাবে শূন্যহার (Zero-Rated) ভ্যাট প্রযোজ্য। অর্থাৎ রপ্তানিকৃত পণ্যের ওপর আউটপুট ভ্যাট দিতে হয় না।

এই সুবিধার উদ্দেশ্য হলো—

  • বাংলাদেশের রপ্তানি খাতকে উৎসাহিত করা।
  • আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি করা।
  • উৎপাদন ব্যয় কমানো।

তবে Zero-Rated সুবিধা গ্রহণের জন্য রপ্তানি সংক্রান্ত সকল আইনগত ও দলিলগত শর্ত যথাযথভাবে পূরণ করতে হবে।

ইনপুট ট্যাক্স রেয়াত (Input Tax Credit)

কোনো প্রতিষ্ঠান যদি উৎপাদন বা ব্যবসার প্রয়োজনে কাঁচামাল, উপকরণ বা অন্যান্য করযোগ্য পণ্য ও সেবা ক্রয়ের সময় ভ্যাট প্রদান করে, তাহলে নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সেই ভ্যাট পরবর্তীতে প্রদেয় আউটপুট ভ্যাটের বিপরীতে সমন্বয় (Input Tax Credit) করা যেতে পারে।

তবে ইনপুট ট্যাক্স রেয়াত গ্রহণের জন্য—

  • বৈধ ট্যাক্স চালান (Mushak Invoice) থাকতে হবে।
  • আইন অনুযায়ী হিসাব ও রেকর্ড সংরক্ষণ করতে হবে।
  • সংশ্লিষ্ট ক্রয় ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহৃত হতে হবে।
  • আইন ও বিধিমালার অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।

সব ধরনের ব্যয়ের ক্ষেত্রে ইনপুট ট্যাক্স রেয়াত গ্রহণযোগ্য নয়। তাই রেয়াত গ্রহণের আগে প্রযোজ্য বিধান যাচাই করা প্রয়োজন।

ভুল ভ্যাট হিসাবের ঝুঁকি

ভ্যাটের ভুল হিসাব বা আইন অনুযায়ী রেকর্ড সংরক্ষণে ব্যর্থ হলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারে, যেমন—

  • NBR অডিটে আপত্তি ও অতিরিক্ত কর নির্ধারণ।
  • জরিমানা, সুদ ও অন্যান্য আর্থিক দায়।
  • ইনপুট ট্যাক্স রেয়াত বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা।
  • রপ্তানি-সংক্রান্ত সুবিধা বা রিফান্ড প্রাপ্তিতে বিলম্ব।
  • আইনগত জটিলতা ও ব্যবসায়িক সুনামের ক্ষতি।

২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের বাজেট অনুযায়ী ভ্যাট ব্যবস্থায় বিভিন্ন খাতে পরিবর্তন অব্যাহত রয়েছে। তাই আমদানি ও রপ্তানির ক্ষেত্রে সঠিক HS Code নির্বাচন, প্রযোজ্য SRO অনুসরণ, যথাযথ হিসাব সংরক্ষণ এবং সময়মতো ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Contributed by the Corporate Desk of EMA.LEGAL, a specialized business law firm in Dhaka

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *